“দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর… কিন্তু তেলের অভাবে থমকে গেছে সব কার্যক্রম! মোংলা বন্দরে এখন এক অদ্ভুত স্থবিরতা!”লাইটার জাহাজ বন্ধ! পণ্য খালাসে ধস, বাড়ছে লোকসান

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে
মোংলা বন্দরের পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এতে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের
বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।



তেলের অভাবে অধিকাংশ লাইটার জাহাজ অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ফলে মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাসে
দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিয়েছে এবং বাড়ছে টার্ন-অ্যারাউন্ড টাইম।



পশুর নদী এবং খুলনার রূপসা নদীর
চার ও পাঁচ নম্বর ঘাট এলাকায়
শত শত খালি লাইটার জাহাজ নোঙ্গর করে থাকতে দেখা গেছে।

যা বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।



লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন—
“জ্বালানি তেল না পাওয়ায় আমরা এক সপ্তাহ ধরে পণ্য বোঝাই করতে পারছি না।”



শিল্প খাতেও পড়েছে এর বড় প্রভাব।

সেভেন সার্কেল সিমেন্ট ফ্যাক্টরির এক কর্মকর্তা জানান—
লাইটার সংকটের কারণে কাঁচামাল খালাস করা যাচ্ছে না।

ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার ডলার বিলম্ব মাশুল দিতে হচ্ছে।



শেখ সিমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—
তেলের অভাবে ক্লিংকার পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়
তাদের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।



লাইটার মালিকদের অভিযোগ—
ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না পাওয়ায়
তারা পণ্য পরিবহন করতে পারছেন না।



মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—
বন্দরে জাহাজের সংখ্যা বাড়ায় তেলের চাহিদা বেড়েছে।

তবে সীমিত সরবরাহের কারণে
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে।



মোংলা বন্দরের এই পরিস্থিতি
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে
ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

‎রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *