🌿 প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সেজে উঠেছে সুন্দরবন।
খলিসা, গরান, পশুর, হারগোজা—রঙ-বেরঙের ফুলে ভরে গেছে বনাঞ্চল।
মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর চারদিক… শুরু হয়েছে মধু আহরণের প্রস্তুতি।
কিন্তু এবার আনন্দের সাথে মিশে গেছে এক অজানা ভয়…
🐯 এতদিন সুন্দরবনে গেলে ভয় ছিল বাঘ আর নদীর কুমির।
কিন্তু এখন সেই ভয়কে ছাপিয়ে গেছে নতুন আতঙ্ক—বনদস্যু!
মৌয়ালরা বলছেন, বনের ভেতরে সক্রিয় কয়েকটি দস্যু দল।
অপহরণ, মুক্তিপণ আর নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে দিন দিন।
💔 ফলে এবার অনেক মৌয়ালই যেতে চাইছেন না মধু সংগ্রহে।
যা একদিকে যেমন দেশের মধু উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে,
অন্যদিকে হাজারো পরিবার পড়তে পারে জীবিকা সংকটে।
📊 বন বিভাগের তথ্য বলছে—
২০২১ সালে যেখানে মধু সংগ্রহ হয়েছিল ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল,
সেটি কমতে কমতে ২০২৫ সালে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে!
👥 একইভাবে কমেছে মৌয়ালদের সংখ্যাও—
২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৮ হাজার,
২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ৫ হাজারে।
📢 স্থানীয়দের ভাষায়—
“বাঘ-কুমিরের ভয় পাইনি কোনোদিন… কিন্তু ডাকাতের ভয়েই এখন বনে যেতে চাই না।”
😔 কেউ কেউ বলছেন—
“ঋণ করে মধু কাটতে যাই… কিন্তু দস্যুর হাতে পড়লে সব শেষ!”
🛡️ তবে বন বিভাগ জানিয়েছে—
মৌয়ালদের নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
🌍 এদিকে, মধু মৌসুমের শুরুতেই পরিস্থিতি পর্যালোচনায়
১ এপ্রিল খুলনা ও সাতক্ষীরা সফরে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি নীল ডুমুর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন
এবং মৌয়ালদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধি
