আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলায় নির্বাচনি উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। উপজেলার ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মাত্র ১২টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ তালিকায় রাখা হয়েছে।মোংলার ৯টি কেন্দ্র ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’: নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোংলায় নির্বাচনি উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। উপজেলার ৫২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মাত্র ১২টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এক নজরে মোংলার নির্বাচনি তথ্য

  • মোট ভোটার সংখ্যা: ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৫ জন।
  • মোট ভোটকেন্দ্র: ৫২টি।
  • অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ): ৯টি।
  • ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ): ৩১টি।
  • সাধারণ কেন্দ্র: ১২টি।

কেন্দ্র চিহ্নিতকরণের কারণ

মোংলা নির্বাচন অফিসের সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা শাহারিয়ার আলম জানান, মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে: ১. বিগত নির্বাচনের সহিংসতা। ২. যাতায়াত ও ভৌগোলিক সমস্যা। ৩. গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন।


গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা

অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (৯টি কেন্দ্র):

সরকারি টি এ ফারুক স্কুল এন্ড কলেজ, চালনা বন্দর ফাজিল মাদ্রাসা, দিগন্ত প্রকল্প সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ, দিগরাজ মহাবিদ্যালয়, দক্ষিণ চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উলুবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর বাঁশতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সুন্দরবন ইউনিয়ন পরিষদ।

ঝুঁকিপূর্ণ (৩১টি কেন্দ্র):

মাকড়ডোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামি আদর্শ একাডেমি, মোংলা বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ভবন-১ ও ২), সেন্ট পলস হাই স্কুল, মোহসিনিয়া আলিম মাদ্রাসা, দিগরাজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বুড়িরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বৈরাগীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপাই পীর মেছের শাহ দাখিল মাদ্রাসা, কানাইনগর আয়সা সিদ্দিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক কেন্দ্র।


নিরাপত্তা ব্যবস্থা: মাঠ পর্যায়ে বিজিবি ও নৌবাহিনী

মোংলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমি জানান, ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনাই তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:

  • বিশেষ ফোর্স: ১৫০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৪টি ক্যাম্প, ১ প্লাটুন বিজিবি এবং একটি কুইক রেসপন্স টিম মাঠে থাকবে।
  • প্রযুক্তিগত নজরদারি: এবারই প্রথম কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
  • প্রিসাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা: প্রথমবারের মতো প্রিসাইডিং অফিসারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সশস্ত্র আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
  • তদারকি: নির্বাচনি এলাকায় তিনজন নির্বাহী ও একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন।

রবি ডাকুয়া/মোংলা বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *