আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক মেরুকরণ তুঙ্গে। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে এখন নির্বাচনী মাঠে টিকে আছেন ২৮ জন প্রার্থী। তবে বাগেরহাটের এই নির্বাচনী লড়াই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলের ‘স্বতন্ত্র’ বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথেও অনেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।আওয়ামী লীগ নেতা যখন বিএনপির প্রার্থী: বাগেরহাটে ক্ষোভে ফুটছে তৃণমূল।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক মেরুকরণ তুঙ্গে। মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শেষে এখন নির্বাচনী মাঠে টিকে আছেন ২৮ জন প্রার্থী। তবে বাগেরহাটের এই নির্বাচনী লড়াই কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলের ‘স্বতন্ত্র’ বা বিদ্রোহী প্রার্থীরা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সাথেও অনেক আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বাগেরহাট-১: আওয়ামী লীগ নেতা যখন বিএনপির প্রার্থী

চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপি এক বড় চমক দেখিয়েছে। অর্ধ ডজন দলীয় নেতাকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে চিতলমারীর কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও মতুয়া নেতা কপিল কৃষ্ণ মন্ডলকে। এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল বিএনপির অনেক নেতাকর্মী সহজভাবে নিতে পারেননি। ফলে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম এবং নেতা শেখ মাসুদ রানা। তৃণমূলের ভোট কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাগেরহাট-২: সদর আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

বাগেরহাট সদর ও কচুয়ায় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তবে তার গলার কাঁটা হয়ে আছেন দলের হেভিওয়েট দুই নেতা এম এ এইচ সেলিম ও এম এ সালাম। যদিও এম এ সালাম মনোনয়ন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে এম এ এইচ সেলিম উন্নয়নের রেকর্ড সামনে এনে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। এদিকে জামায়াতে ইসলামীর তরুণ প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ তার ছাত্রশিবিরের অতীত ভাবমূর্তি ও ফ্যাসিবাদী আন্দোলন বিরোধী ভূমিকার কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।

বাগেরহাট-৩: স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের চ্যালেঞ্জ

মোংলা-রামপাল আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে এখানেও বিএনপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। অন্যদিকে জামায়াত নেতা মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ শেখও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। এই আসনে এনসিপি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও ভোটের হিসাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।

বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় নয়া সমীকরণ

এই আসনেও বিএনপি চমক দিয়ে মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও মতুয়া ধর্মীয় নেতা সোমনাথ দে-কে। হিন্দু ভোটারদের ওপর নির্ভর করে তিনি জয়ের আশা করলেও, তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথ কাঁপানো বিএনপি নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। অন্যদিকে জামায়াতের সাবেক ছাত্র নেতা অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তির জোরে জয়ের ব্যাপারে বেশ আত্মবিশ্বাসী।

পর্যবেক্ষণ

সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাটের রাজনীতিতে এবার ভিন্ন হাওয়া বইছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের সাথে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের দূরত্ব এবং জামায়াতের ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক শক্তি নির্বাচনী লড়াইকে বহুমুখী করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় কোন্দল মিটিয়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে, স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীরাই বাগেরহাটে চমক দেখাতে পারেন।

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *