আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার মোংলা বন্দর—সেখানে আবারও দেখা দিল আইনি জটিলতার ছায়া। আমদানিকারকের দায়ের করা মামলার জেরে মোংলা বন্দরে আটক করা হয়েছে পানামা পতাকাবাহী একটি বিদেশি জাহাজ।১২ দিনের ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা, বন্দরে বিদেশি জাহাজ আটক

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার মোংলা বন্দর—সেখানে আবারও দেখা দিল আইনি জটিলতার ছায়া। আমদানিকারকের দায়ের করা মামলার জেরে মোংলা বন্দরে আটক করা হয়েছে পানামা পতাকাবাহী একটি বিদেশি জাহাজ।

‘এম ভি এইচটিপি আম্বার’ নামের জাহাজটি গত ২৭ ডিসেম্বর ৯ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন সার নিয়ে মোংলা বন্দরে নোঙর করে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস না হওয়ায় শুরু হয় বিরোধ। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম দিনে আংশিক সার খালাসের পর টানা ১২ দিন পণ্য খালাস বন্ধ রাখে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।

এতে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’ চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। বাজারে সময়মতো সার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি লাইটার ভাড়া ও শ্রমিক খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয় প্রতিষ্ঠানটি।

গত ৮ জানুয়ারি দায়ের করা মামলার পরদিনই আদালতের নির্দেশে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজটি আটক রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বর্তমানে বন্দরের নির্দিষ্ট বয়ায় নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে বিদেশি জাহাজটি। যদিও বন্দরের হারবার বিভাগ জানিয়েছে, আটক থাকা সত্ত্বেও জাহাজ থেকে নিয়মিত সার খালাস চলছে।

আমদানিকারক পক্ষ বলছে, জাহাজ ভাড়াকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সৃষ্ট ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতার দায় তাদের নেওয়ার কথা নয়। ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে মামলাটি প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোংলা বন্দরে এ ধরনের জাহাজ আটক নতুন নয়। ব্যবসায়িক বিরোধ বা আইনি জটিলতার কারণে আগেও বিদেশি জাহাজ আটকের নজির রয়েছে। তবে প্রতিবারই এর প্রভাব পড়ে আমদানি, সরবরাহ ও সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থায়।

ঘটনার সর্বশেষ আপডেট ও আইনি অগ্রগতি জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী প্রতিবেদনে।

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *