পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় খাদ্য বিভাগের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে উপজেলা হাসপাতাল সড়ক এলাকা থেকে মোঃ অলিউল্লাহ্ নামের ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপ-খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, তরমুজ চাষিদের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
🍉 তরমুজ চাষিদের গুরুতর অভিযোগ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাঙাবালী ও চরফ্যাশন উপজেলার একাধিক কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফলের চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তারা চর দিয়ারাকচুয়া এলাকায় জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাছে ফল আসার পর অলিউল্লাহর নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি ওই জমি নিজেদের দাবি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে খেত থেকে তরমুজ সংগ্রহ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
🚨 তরমুজ বোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে চাষিরা প্রায় ৯ হাজার পিস তরমুজ সংগ্রহ করে দুটি ট্রলারে করে বাজারে পাঠানোর প্রস্তুতি নেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
গত ১৬ মার্চ বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্তদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। চাষিরা অস্বীকৃতি জানালে তারা জোরপূর্বক তরমুজ বোঝাই ট্রলার দুটি নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর একটি ট্রলার, যাতে প্রায় ৪ হাজার তরমুজ ছিল, তা ফেরত দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
⚖️ মামলা ও গ্রেফতার
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চাষি আরব আলী বাদী হয়ে বাউফল থানায় মোঃ অলিউল্লাহ্ ওরফে অলি-কে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত অলিকে গ্রেফতার করে।
👮 পুলিশের বক্তব্য
বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এইচ এম বাবলু/পটুয়াখালী প্রতিনিধি
