মোংলা বন্দরে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে লাইটার জাহাজগুলো বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে আনতে পারছে না। ফলে বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজগুলো তেলের অভাবে কাজ করতে পারছে না।
মোংলা বন্দরের ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরের ফেয়ারওয়ে এলাকায় অবস্থানরত বিদেশি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করতে একটি লাইটার জাহাজের জন্য ১৮০০ থেকে ২০০০ লিটার ডিজেল তেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তেল সরবরাহ না থাকায় শতাধিক লাইটার জাহাজ অচল হয়ে পড়েছে। এর কারণে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে এবং আমদানি-রফতানি খরচ বেড়েছে।
লাইটার জাহাজের মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি তেলের সংকট অব্যাহত থাকে, তবে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে যেতে পারে। এতে দেশের শিল্প উৎপাদন, বাজার সরবরাহ এবং আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বন্দর ব্যবস্থাপনা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি)-এর আহ্বায়ক সফিক আহমেদ ৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি পাঠিয়ে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে অনুরোধ করেছেন।
বন্দর ও ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সমাধান হলে পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করা যাবে।
রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি
