সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমের টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও শুরু হয়েছে কাঁকড়া আহরণ। রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে বনের গভীরে রওনা দিয়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। দীর্ঘ বিরতির পর কর্মব্যস্ততা ফেরায় বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলার উপকূলীয় জেলেপল্লিগুলোতে বইছে আনন্দের জোয়ার।দুই মাস পর খুলল সুন্দরবনের দুয়ার: স্বস্তিতে কাঁকড়া শিকারি জেলেরা

সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমের টানা দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আবারও শুরু হয়েছে কাঁকড়া আহরণ। রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকেই বন বিভাগের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে বনের গভীরে রওনা দিয়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। দীর্ঘ বিরতির পর কর্মব্যস্ততা ফেরায় বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলার উপকূলীয় জেলেপল্লিগুলোতে বইছে আনন্দের জোয়ার।

উপকূলজুড়ে সাজ সাজ রব

সরেজমিনে মোংলা ও রামপালের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোরের আলো ফোটার আগেই জেলেরা তাদের নৌকায় সরঞ্জাম তুলতে শুরু করেছেন। কেউ নৌকায় খাদ্যসামগ্রী তুলছেন, কেউ আবার কাঁকড়া ধরার বিশেষ দোন-দড়ি ও চারো (টোপ) গুছিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘ ৫৯ দিন কর্মহীন থাকার পর প্রিয় কর্মস্থলে ফেরার এক দারুণ ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে জেলেদের চোখেমুখে।

অর্থনৈতিক সংকট ও নতুন আশা

প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সুন্দরবনে কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ থাকে। এই সময়ে বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েন জেলেরা। অনেক পরিবারকে স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে দাদন (ঋণ) নিয়ে সংসার চালাতে হয়েছে।

জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুন্দরবনের কাঁকড়া আহরণই তাদের একমাত্র উপজীব্য। এক জেলে বলেন,

“অন্য কোনো কাজ আমরা জানি না। এই দুই মাস খুব কষ্টে কেটেছে। এখন ঋণ শোধ করার আশায় বুক বেঁধে আবারও বনে যাচ্ছি।”

বন বিভাগের বক্তব্য

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতি বছর এই নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ পাস বন্ধ রাখা হয়। ৫৯ দিনের সফল নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ ১ মার্চ থেকে জেলেরা নিয়ম মেনে আবারও সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন।

দরিদ্র জেলেদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান বা সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে তাদের ধারদেনা করে চলতে হতো না। তবে সব কষ্ট ভুলে আবারও জাল আর নৌকা নিয়ে নতুন উদ্যমে সুন্দরবনের গভীরে পাড়ি জমিয়েছেন সুন্দরবনের এই সাহসী মানুষগুলো।

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *