দেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গত এক বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এক বছরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৭ হাজার ৫১৬ কোটি টাকার অবৈধ পণ্য, মাদক ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, কোস্টগার্ডের বার্ষিক বাজেট ৭০০ কোটি টাকা হলেও তাদের অর্জিত সাফল্যের আর্থিক মূল্য বাজেটের চেয়ে প্রায় ২৫ গুণ বেশি।

অভিযানের মূল চিত্র:
- চোরাচালান ও অস্ত্র উদ্ধার: গত এক বছরে ১৫০ কোটি ৪১ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য এবং ২০৩টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
- মাদকবিরোধী অভিযান: মাদক কারবারিদের কাছ থেকে প্রায় ১৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৮ লাখ ৯২ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ক্রিস্টাল মেথ (আইস) জব্দ করা হয়েছে।
- মৎস্য সম্পদ রক্ষা: জাটকা ও নিষিদ্ধ জাল বিরোধী অভিযানে প্রায় ১৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রক্ষা করেছে বাহিনীটি। যার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা অর্জন করেছে ‘রৌপ্য পদক-২০২৫’।
- মানব পাচার ও দস্যুতা দমন: পাচারের শিকার ২৯৭ জনকে উদ্ধারের পাশাপাশি ১ হাজার ৫২৭ জন ডাকাত ও অপরাধীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে বন্দর এলাকায় দস্যুতা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা এবং অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে অসামান্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) থেকে কোস্টগার্ড ‘লেটার অব কমেন্ডেশন-২০২৫’ অর্জন করেছে। এমটি বাংলার জ্যোতি ও বাংলার সৌরভের মতো বড় বড় জাহাজের আগুন নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
দেশের অর্থনীতি রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে কোস্টগার্ডের এই বিশাল সাফল্য বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি
