মেঘনার উত্তাল জলরাশি আর নির্জন চরাঞ্চল যখন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই আঘাত হানল সেনাবাহিনী। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দুর্গম গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়েছে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের আওতাধীন গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প। অভিযানে কুখ্যাত নৌ-ডাকাত ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীর একটি গোপন আস্তানা ও বিশেষ ওয়াচ টাওয়ারের সন্ধান মিলেছে, উদ্ধার করা হয়েছে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি।
যেন সিনেমার কোনো অপরাধ জগত!
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লোকালয় থেকে বহু দূরে এক নির্জন স্থানে অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছিল এই আস্তানা। ভেতরে ৫-৬ জন সশস্ত্র ডাকাতের থাকার সুব্যবস্থা। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ ছিল আস্তানাটির ওপর নির্মিত একটি ‘ওয়াচ টাওয়ার’। যেখান থেকে দূরবীন বা খালি চোখে মাইলের পর মাইল মেঘনা নদী আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি নজরে রাখত ডাকাতরা। দিনের বেলা সাধারণ মানুষের বেশ ধরলেও রাতে এখান থেকেই পরিচালিত হতো মেঘনার বুকে ত্রাসের রাজত্ব।
সেনাবাহিনীর চিরুনি অভিযান
গজারিয়া সেনা ক্যাম্প জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে এই যৌথ অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর কৌশলী অবস্থানের কারণে অপরাধী চক্রটি ঘেরাও হওয়ার উপক্রম হলেও, অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এবং অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে তারা দ্রুত গা ঢাকা দেয়। তবে তাদের ফেলে যাওয়া আস্তানা থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দ করে আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাত দলটি বড় ধরনের কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে এখানে পুনরায় সংগঠিত হচ্ছিল।
শান্তি ফিরবে মেঘনার বুকে
গজারিয়া সেনা ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে সেনাবাহিনী বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। মুন্সীগঞ্জের প্রতিটি জনপদে শান্তি বজায় রাখতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষকে অপরাধীদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, “সেনাবাহিনী গুলিগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তরের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুয়াগাছিয়াসহ পুরো উপজেলায় যেকোনো অপতৎপরতা দমনে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।”
ভীত ডাকাত দল, আশাবাদী জনপদ
সেনাবাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। মেঘনা উপকূলের জেলেরা বলছেন, এই আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ডাকাতদের মনে কাঁপন ধরবে। এখন প্রয়োজন এই পলাতক ‘নয়ন-পিয়াস’ বাহিনীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা, যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারে।
আমিরুল ইসলাম নয়ন | গজারিয়া প্রতিনিধি
