বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে নিরাপদ ও দস্যুমুক্ত করতে অচিরেই শুরু হচ্ছে বড় ধরনের যৌথ অভিযান। বনদস্যুদের তালিকা হালনাগাদ করে তাদের গতিবিধির ওপর শুরু হয়েছে বিশেষ নজরদারি।
শনিবার বিকেলে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানান বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন; ধর্ম এবং আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বনদস্যুদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান
প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে ৫টি বনদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। তাদের চিহ্নিত করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগ সমন্বিতভাবে এই অভিযানে নামবে।
অভিযানের চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
দরিদ্র বনজীবীদের নিরাপত্তা ও জিরো টলারেন্স
সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্টের কথা উল্লেখ করে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন:
“এই জনপদের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। জীবিকার তাগিদে তারা বনে যায়, কিন্তু সেখানে দস্যুদের হাতে আক্রান্ত হয়। আমরা চাই না আমাদের মানুষগুলো বনের ভেতরে কোনো ঝুঁকির মধ্যে পড়ুক। সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবার দস্যুবিরোধী অভিযান দৃশ্যমান হবে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, শুধু দস্যুতা নয়—বিষ দিয়ে মাছ শিকার, বনজ সম্পদ লুটপাট এবং জেলেদের ওপর চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বনের ক্ষতি করে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
মাজার জিয়ারত ও সংবাদ সম্মেলনের সময় প্রতিমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট
