একুশ মানেই মাথা নত না করা, একুশ মানেই অধিকার আদায়ের দীপ্ত শপথ। কিন্তু এবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করলেন—একুশ মানে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াও।ব্যানার-পুষ্পস্তবক নয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে মানবিকতার জয়গান: একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

একুশ মানেই মাথা নত না করা, একুশ মানেই অধিকার আদায়ের দীপ্ত শপথ। কিন্তু এবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করলেন—একুশ মানে বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াও।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যখন চারদিকে পুষ্পস্তবক অর্পণ আর ব্যানার প্রদর্শনের হিড়িক, ঠিক তখন এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তারা শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার চিরাচরিত প্রথা এড়িয়ে সেই অর্থ উৎসর্গ করেছেন জীবন যুদ্ধে লড়তে থাকা এক সহপাঠীর জন্য।

মানবিকতার এক উজ্জ্বল নাম ‘তামান্না’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস তামান্না বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ। তামান্নার এই সংকটে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি তার সহযোদ্ধারা। সংগঠনের আহ্বায়ক মোঃ আবু সাঈদ ও সদস্য সচিব মোঃ হাসানসহ কমিটির সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত সামর্থ্য অনুযায়ী তহবিল সংগ্রহ করেন। সেই সংগৃহীত অর্থ আজ তামান্নার সহপাঠীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের পেছনের ভাবনা

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ভাষা আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল মানুষের অধিকার রক্ষা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো। কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে একুশকে সীমাবদ্ধ না রেখে, একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসাই হলো একুশের প্রকৃত তাৎপর্য। তাদের মতে, “একজন সহপাঠীকে সুস্থ করে ক্লাসে ফিরিয়ে আনাটাই আমাদের কাছে এবারের একুশের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

ক্যাম্পাস জুড়ে প্রশংসা

শিক্ষার্থীদের এমন দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “ব্যানার আর ফুলের ক্ষণস্থায়ী প্রদর্শনের চেয়ে তামান্নার মুখে হাসি ফোটানোর এই চেষ্টা অনেক বেশি কার্যকর ও মানবিক।”

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, তরুণ প্রজন্ম চাইলে চিরাচরিত প্রথার বাইরে গিয়েও সমাজ ও মানুষের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একুশের এই মানবিক সংহতি যেন প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

জুবায়ের হাসান/শাহজাদপুর প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *