সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচার রোধে আবারও সজাগ দৃষ্টির প্রমাণ দিলেন মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকার বাসিন্দারা। গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাচারকারীরা একটি জবাই করা বন্য শুকর নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে তা ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ঘটনার বিবরণ
রাত তখন আনুমানিক ১১টা। পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ও কাটাখালি টহল ফাঁড়ির মাঝামাঝি বুড়বুড়িয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একদল পাচারকারীকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। জনতা ধাওয়া করলে পাচারকারীরা আতঙ্ক ছড়িয়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে ফেলে রেখে যায় বস্তাবন্দি একটি বিশাল বন্য শুকর।
হরিণের মাংস বলে বিক্রির অপচেষ্টা
স্থানীয়দের তথ্যমতে, এই অসাধু চক্রটি সুন্দরবন থেকে বন্য শুকর শিকার করে সেটিকে জবাই করে। পরে সাধারণ মানুষের কাছে শুকরের মাংসকে হরিণের মাংস বলে চালিয়ে দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করার পাঁয়তারা করছিল তারা।
বন বিভাগের তৎপরতা ও উদ্ধার
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারি ও কাটাখালি টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার রাজিবের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল। তারা বস্তাবন্দি গলাকাটা শুকরটি উদ্ধার করেন। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী:
- মৃত বন্যপ্রাণী লোকালয়ে রাখার সুযোগ নেই।
- সংক্রমণ রোধ ও অপব্যবহার ঠেকাতে রাতেই জনসম্মুখে কেরাসিন ছিটিয়ে শুকরটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
“খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থল থেকে শুকরটি উদ্ধার করি এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তা ডিসপোজ করা হয়। অপরাধীদের তৎক্ষণাৎ ধরা না গেলেও, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” > — ইফতেখার রাজিব, বন কর্মকর্তা।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এমন সাহসিকতা ও সচেতনতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি
