প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বনের রানি সে, কিন্তু মানুষের পাতা মরণফাঁদে থমকে গিয়েছিল তার গর্জন। তবে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এখন সে পূর্ণ সুস্থতার পথে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে চোরা শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া সেই বাঘিনী দীর্ঘ ৪২ দিনের লড়াই শেষে এখন আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলো সুন্দরবনের সেই বাঘিনী! ৪২ দিনের লড়াই শেষে এখন সুস্থ।

প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বনের রানি সে, কিন্তু মানুষের পাতা মরণফাঁদে থমকে গিয়েছিল তার গর্জন। তবে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এখন সে পূর্ণ সুস্থতার পথে। সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জে চোরা শিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া সেই বাঘিনী দীর্ঘ ৪২ দিনের লড়াই শেষে এখন আবারও বনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দীর্ঘ লড়াই ও সুস্থতার গল্প

গত ৩ জানুয়ারি জয়মনির শরকির খাল এলাকায় হরিণ ধরার ফাঁদে আটকা পড়েছিল পূর্ণবয়স্ক এই বাঘিনীটি। উদ্ধারের সময় তার অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। বাম পায়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল নার্ভ ও মাংসপেশি। এমনকি শরীর এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল যে ফুসফুসের কার্যকারিতাও কমে গিয়েছিল।

বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে। গাজীপুর সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন সাজ্জাদ মো. জুলকারনাইনের তত্ত্বাবধানে চলছে তার বিশেষ চিকিৎসা।

বর্তমান অবস্থা: ফিরেছে সেই রাজকীয় গর্জন

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ জানিয়েছেন এক স্বস্তির খবর। তিনি বলেন:

“বাঘিনীটি এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছে। তার পায়ের ক্ষত দ্রুত শুকিয়ে আসছে এবং সে এখন নিয়মিত গর্জন করছে। চলাফেরাতেও আগের সেই ক্ষিপ্রতা ও স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে।”

কেন এখনই অবমুক্ত করা হচ্ছে না?

বনবিভাগ জানিয়েছে, বাঘিনীটি সুস্থ হলেও তাকে এখনই বনে ছাড়া হচ্ছে না। কারণ:

  • পুরোপুরি সুস্থতা নিশ্চিত করা: আংশিক সুস্থ অবস্থায় বনে ছাড়লে সে শিকার ধরতে পারবে না বা অন্য জটিলতায় পড়তে পারে।
  • ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য: তার শরীরে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের যে ঘাটতি ছিল, তা পুরোপুরি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

পেছনের কথা

গত ৩ জানুয়ারি খবর পাওয়ার পর ৪ জানুয়ারি ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল বাঘটিকে অচেতন করে উদ্ধার করে। এরপর থেকে খুলনা রেসকিউ সেন্টারে তার জীবন বাঁচানোর লড়াই শুরু হয়। ৪২ দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় বাঘিনীটি এখন সুস্থ।


উপসংহার: চোরা শিকারিদের এই নিষ্ঠুরতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই বাঘিনীটির সুস্থ হয়ে ওঠা বন বিভাগ ও প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এক বড় জয়। খুব শীঘ্রই সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে আবারও শোনা যাবে এই রানির রাজকীয় গর্জন।

রবি ডাকুয়া | বাগেরহাট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *