সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে ভোটের এক অনন্য সমীকরণ দেখা গেছে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রদত্ত ভোটের ন্যূনতম অংশ না পাওয়ায় এই প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বিপুল ভোটে ড. এম এ মুহিতের বিজয়
নির্বাচনে শাহজাদপুরের মানুষের নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডক্টর এম এ মুহিত। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ১২৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই বিশাল জয় নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ দিচ্ছে।
কেন বাজেয়াপ্ত হলো জামানত?
নির্বাচন কমিশনের ২০২৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে ওই নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের অন্তত আট ভাগের এক ভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। শাহজাদপুর আসনে বিজয়ীর জোয়ারে অন্য প্রার্থীরা এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।
“নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের ১২.৫ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় শাহজাদপুর আসনের ৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”
— জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা, সিরাজগঞ্জ।
জামানত হারানো প্রার্থীদের তালিকা ও প্রাপ্ত ভোট:
ভোটের লড়াইয়ে যারা নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের প্রাপ্ত ভোটের চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| প্রার্থীর নাম | দল | প্রাপ্ত ভোট |
| মিসবাহ উদ্দিন | ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | ২,৫৪০ |
| মোশারফ হোসেন শহিদুল | ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ | ১,১৩০ |
| মোক্তার হোসেন | জাতীয় পার্টি | ১,০৬২ |
| মোছাঃ ইলোরা খাতুন | জেএসডি | ৮৮৪ |
| আসাদুল হক | আমজনতার দল | ৬৪৯ |
| হুমায়ুন কবির | স্বতন্ত্র | ৪২৭ |
| আনোয়ার হোসেন | বাসদ | ৩৭৫ |
| আবু জাফর আনোয়ারুস সাদাত | এবি পার্টি | ২৬৮ |
| ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস | স্বতন্ত্র | ২৫২ |

মাঠের চিত্র
শাহজাদপুরের ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে জনমত প্রধানত দুই-তিনটি ধারায় বিভক্ত ছিল। ফলে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। ড. এম এ মুহিতের বিশাল ব্যবধানে জয় এবং বাকিদের জামানত হারানোর বিষয়টি শাহজাদপুরের রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জুবায়ের হাসান/শাহজাদপুর প্রতিনিধি
