আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের চিরচেনা নির্বাচনি প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগের ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে মাঠের লড়াই এখন দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রধান এই দুই দলের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় সমান সমান, যা লড়াইকে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।বাগেরহাট-৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’ কোন দিকে যাবে?

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনের চিরচেনা নির্বাচনি প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে আওয়ামী লীগের ‘নিরাপদ দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার দলটির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে মাঠের লড়াই এখন দুই সাবেক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। নির্বাচনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রধান এই দুই দলের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় সমান সমান, যা লড়াইকে ‘হাড্ডাহাড্ডি’ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের ‘নীরব ভোট’ই বড় ফ্যাক্টর

মোংলা ও রামপালের ১৬টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ও সুসংগঠিত ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলটির স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা আত্মগোপনে থাকায় এই ভোটাররা এখন ‘নীরব’। বিশ্লেষকদের মতে, এই কয়েক লাখ নীরব ভোটার এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত কার দিকে ঝুঁকবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়।

নিয়ামক যখন সংখ্যালঘু ভোট

বাগেরহাট-৩ আসনে জয়ী হতে হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট পাওয়া অপরিহার্য। অতীতে এই ভোটের সিংহভাগ আওয়ামী লীগের বাক্সে গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই এই ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া। যারা এই সম্প্রদায়ের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে, তারাই নির্বাচনি বৈতরণী পার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


প্রার্থীদের অবস্থান ও তৎপরতা

১. বিএনপি (ধানের শীষ): দলের প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম গত দুই দশক ধরে এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, মানুষ এবার প্রতীকের চেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে। তার ভাষ্যমতে:

“আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, আশা করি ভোটাররা তার প্রতিফলন দেবেন।”

২. জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা): প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ শেখ মাঠ পর্যায়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তাদের কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন:

“সন্ত্রাস ও রাহাজানি ঠেকাতে আমাদের নেতাকর্মীরা নিরলস কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষের রায় এবার আমাদের পক্ষেই যাবে।”

৩. অন্যান্য ও স্বতন্ত্র: নির্বাচনি মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী প্রচারণা চালালেও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি এম এ এইচ সেলিমের তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়ছে না।

রবি ডাকুয়া/মোংলা বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *