আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটে বইছে ভোটের হাওয়া। তবে সাধারণ ভোটারদের মনে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি কেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। এই উদ্বেগ নিরসনে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।ভোটারদের মনে শঙ্কা না স্বস্তি? বাগেরহাটে মাঠে নামছে সেনা ও কোস্টগার্ড

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটে বইছে ভোটের হাওয়া। তবে সাধারণ ভোটারদের মনে যেমন উৎসাহ আছে, তেমনি কেন্দ্র দখল বা বিশৃঙ্খলা নিয়ে রয়েছে কিছুটা উদ্বেগ। এই উদ্বেগ নিরসনে এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলায় মোট ৫৪৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪০৯টি কেন্দ্রকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ১৮৬টি কেন্দ্রকে রাখা হয়েছে ‘উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ’ তালিকায়।

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ভোটকেন্দ্র

নির্বাচনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • সিসিটিভি নজরদারি: জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। সিসিটিভি স্থাপনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
  • কঠোর প্রহরার আনসার ও পুলিশ: প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য থাকছেন, যার মধ্যে ৩ জন থাকবেন সশস্ত্র। এছাড়া পুলিশের বিশেষ টিমও প্রতিটি কেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে।
  • স্ট্রাইকিং ফোর্স: মাঠ পর্যায়ে টহলে থাকছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং র‍্যাব।

প্রশাসনের আশ্বাস

বাগেরহাটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন,

“শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিটি কেন্দ্রকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।”

বাগেরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি স্থাপনের ফলে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি এখন স্বচ্ছ থাকবে। এতে ভোটারদের আস্থাও বাড়বে।

এক নজরে বাগেরহাটের নির্বাচনী সমীকরণ

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

কেন্দ্র ধরণসংখ্যা
উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ১৮৬টি
ঝুঁকিপূর্ণ২২৩টি
সাধারণ১৩৮টি
মোট কেন্দ্র৫৪৭টি

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ। তবে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বাড়তি বাহিনীর মোতায়েন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *