পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া বাজারে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে।পটুয়াখালীতে নির্বাচনী সংঘাত: প্রচারণায় বাধা ও টাকা দেওয়ার অভিযোগে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভান্ডারিয়া বাজারে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটে।

ঘটনার সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর একদল নারী কর্মী চরমিয়াজান এলাকায় ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচারণায় নামেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা তাঁদের বিরুদ্ধে ভোটারদের টাকা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রচারণায় বাধা প্রদান করেন।

এই খবর ছড়িয়ে পড়লে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলা এই সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার লক্ষ্য করা গেছে।

আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা

সংঘর্ষে দুই পক্ষের নারীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত ২৪ জনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের তালিকায় রয়েছেন— মো. জুয়েল (৩৩), মো. নয়ন (১৭), লিমা জাহান (২৫), শাহজালাল (২০), সুজন (২৬), শহিদুল বেপাড়ি (২৭), হাফেজ আনিসুর রহমান (৫৫), আমিনুল মাতুব্বর (৩৫), নুরু মাতুব্বর (৩৫), সাইফুল শরিফ (৩৫), আল আমিন চৌকিদার (২৫) ও সোহাগ (২৭)।

তবে জামায়াত কর্মী মো. জামাল মৃধার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

সংঘর্ষের পর থেকে পুরো চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এইচ এম বাবলু/পটুয়াখালী প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *