চায়ের দোকানে উত্তপ্ত তর্ক, হাটে-বাজারে ভোটের সমীকরণ আর মোংলা-রামপালের অলিতে-গলিতে এখন একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন বাগেরহাট-৩ আসনের পরবর্তী কাণ্ডারি? আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনপদে বইছে আগাম নির্বাচনী ঝড়। দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ‘ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি’ বড় হয়ে ওঠায় ভোটের মাঠে শুরু হয়েছে এক স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই।
এক আসনে তিন হেভিওয়েট: সমীকরণ যখন জটিল
বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে লড়াইটা এখন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অস্তিত্বের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। লড়াইয়ের ময়দানে মূল তিনটি মেরু এখন স্পষ্ট:
১. ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম (বিএনপি): ক্লিন ইমেজ এবং দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমূলক কাজের কারণে তিনি সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় রয়েছেন। মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে অনেকটা এগিয়ে রাখলেও তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দলেরই পুরনো নেতৃত্ব।
২. মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখ (জামায়াত): জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থীর রয়েছে একটি সুসংগঠিত এবং সুশৃঙ্খল ভোট ব্যাংক। দীর্ঘদিনের নীরব কিন্তু সক্রিয় সাংগঠনিক কাজ তাঁকে বড় চ্যালেঞ্জার হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
৩. এমএএইচ সেলিম (স্বতন্ত্র): খেলার মাঠের সবচেয়ে বড় ‘টুইস্ট’ বা চমক হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও এই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাঁর ব্যক্তিগত প্রভাব এবং পুরনো রাজনৈতিক ভিত্তি বিএনপির মূল প্রার্থীর ভোট ব্যাংকে বড় ধরনের হানা দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ভোটের ভাগ্য কার হাতে?
এই আসনে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন ভোটারের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা (১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন) পুরুষ ভোটারের চেয়ে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ‘ভাসমান ভোটার’ এবং ‘নারী ভোটাররা’ যেদিকে ঝুঁকবেন, জয়ের মালা তাঁর গলায় উঠবে।
অন্যান্য প্রার্থীরাও লড়াকু
লড়াই কেবল তিনজনেই সীমাবদ্ধ নেই; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিল্লুর রহমান এবং জেএসডি-র হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় ভোট সুসংহত করতে দিনরাত প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁদের অর্জিত ভোটগুলো মূল তিন প্রার্থীর হার-জিতের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের চোখ যেখানে
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমএএইচ সেলিমের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়া ড. ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে, জামায়াত ও বিএনপির এই চিরচেনা লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে—তা নির্ভর করছে মোংলা ও রামপালের সাধারণ মানুষের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ওপর।
উপসংহার: মোংলা পোর্ট পৌরসভা থেকে রামপালের প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই এখন ভোটের হিসাব-নিকাশ। শেষ হাসি কি অভিজ্ঞতার হবে, নাকি নতুন নেতৃত্ব বাজিমাত করবে? উত্তর মিলবে কেবল ভোটের দিন।
রবি ডাকুয়া | বাগেরহাট
