দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলার অঙ্গীকার ডা. শফিকুর রহমানের! বাগেরহাটের রাজপথে জামায়াতের বিশাল শক্তি প্রদর্শন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মজলুম এই সংগঠনটিই পারবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে।""ফাঁসি, গুম আর আয়নাঘর ডিঙিয়ে আবারও রাজপথে মজলুম জনতা: ডা. শফিকুরের জ্বালাময়ী ভাষণ"

শীতের সন্ধ্যায় বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.) মাজার মাঠ তখন কানায় কানায় পূর্ণ। মুহুর্মুহু স্লোগান আর জনস্রোতের মাঝে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করলেন এক নতুন লড়াইয়ের বার্তা। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, “আমরা দুর্নীতির পাতা ধরে টানাটানি করতে আসিনি, আমরা এসেছি দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জেলা জামায়াত আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সমসাময়িক রাজনীতির পঙ্কিলতা আর জামায়াতের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরেন।

“কার হাতে নিরাপদ দেশ ও নারী?”

ডা. শফিকুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা কি কখনও শুনেছেন জামায়াতের কোনো কর্মী চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজি করেছে? যারা সাধারণ মানুষের হক নষ্ট করে, আমরা তাদের বিরুদ্ধেই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছি।” তিনি উল্লেখ করেন, আজ নারীরা দলে দলে জামায়াতের পতাকাতলে আসছেন কারণ তারা জানেন, এই সংগঠনেই তাদের ইজ্জত ও জানমাল সবচেয়ে নিরাপদ।

রক্ত আর ত্যাগের দীর্ঘ ফিরিস্তি

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবেগঘন হয়ে পড়ে পরিবেশ। আমির স্মরণ করিয়ে দেন গত কয়েক বছরের দুঃসহ স্মৃতি। তিনি বলেন, “যে দলের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে, হাজারের বেশি সহকর্মীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর আড়াই শতাধিক মানুষকে রাখা হয়েছে অন্ধকার আয়নাঘরে—সেই দলের নাম জামায়াতে ইসলামী।” নিবন্ধন বাতিল, প্রতীক কেড়ে নেওয়া এবং ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো চরম জুলুম সহ্য করেও জামায়াত হকের পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

ইনসাফ কায়েমের আহ্বান

বাগেরহাটের চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই কোনো গদি দখলের নয়, বরং ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই। জুলুমের অবসান ঘটিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে এই মজলুম সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভা শেষে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছিল একটিই কথা—রাজনীতির মাঠে এই ‘শিকড় উপড়ানোর’ অঙ্গীকার শেষ পর্যন্ত কতটা বদলাবে আগামীর বাংলাদেশ?

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *