রপ্তানি বহুমুখীকরণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন নয়: বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনপোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা | শেখ বশিরউদ্দীন

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে কেবল তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল রাখলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই সময় এসেছে রপ্তানি বহুমুখীকরণের।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় পূর্বাচলের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

শেখ বশিরউদ্দীন জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই একক নির্ভরতা কমাতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এই লক্ষ্য অর্জনে ‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্পের আওতায় বড় পরিসরে সংস্কার ও বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে নন-পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি অন্তত ২ দশমিক ৫ গুণ বাড়ানো জরুরি

এ জন্য সরকার চামড়া, জুতা, প্লাস্টিক এবং হালকা প্রকৌশল খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা উন্নত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পণ্য প্রোটোটাইপিংয়ের সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও জানান, প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর এক হাজার দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি করা হবে।

রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড এর মাধ্যমে ১১০টিরও বেশি কারখানাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ভবিষ্যতে আইসিটি, ওষুধ শিল্প এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও পণ্যের মান উন্নয়নই হবে আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রকল্প কেবল একটি সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনে ফেরদৌস সুমি, অর্থনীতিবিদ ড. এম এ রাজ্জাক, ইউএনডিপির ড. এম মাসরুর রিয়াজসহ সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা—
সরকার যেন সহজ শর্তে ঋণ ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রেখে বিশ্ববাজারে ‘Made in Bangladesh’ ব্র্যান্ডকে আরও সুসংহত করে।

মোঃ নওয়াব ভূইয়া / নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *