সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলে বনদস্যুদের তাণ্ডবে দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি আহরণ কেন্দ্র দুবলারচর এখন ভয়াবহ সংকটে।
সুন্দরবনের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী দুবলারচরে কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরতে না পারায় মাছ শুকানোর মাচাগুলো এখন খাঁ খাঁ করছে। বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য ও সাগরে মাছের সংকটে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন শুঁটকি পল্লির জেলেরা।
দুবলার আলোরকোল এলাকার রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মো. মোতাসিম ফরাজী জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে বনদস্যুরা একের পর এক জেলেকে অপহরণ করছে। মুক্তিপণের দাবিতে জেলেদের জিম্মি করায় আতঙ্কে কেউই সাগর কিংবা সুন্দরবনের নদী-খালে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
তিনি আরও বলেন, এ বছর সাগরে এমনিতেই মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে। যে সামান্য মাছ মিলছে, তা দিয়ে ট্রলারের জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে শুঁটকি পল্লীতে মাছ শুকানোর শত শত মাচা এখন ফাঁকা পড়ে আছে।
একদিকে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া, অন্যদিকে বনদস্যুদের হামলা—এই দুইয়ের চাপে জেলে ও মহাজনরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। প্রায়ই দস্যুরা জেলেদের ধরে নিয়ে জিম্মি করছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনতে হচ্ছে।
এর ফলে শুঁটকি আহরণে যুক্ত অধিকাংশ জেলেই এখন ঋণগ্রস্ত। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দিন কাটছে দুশ্চিন্তায়—জানান জেলে নেতা মোতাসিম ফরাজী।
দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মে. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মৌসুমের শুরুটা ভালো হলেও হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। সাগরে মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে, আর একই সঙ্গে বনদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ট্রলার ও নৌকা নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে গেলে দস্যুরা ধাওয়া করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বনদস্যু দমনে র্যাব ও কোস্টগার্ডের টহল ও অভিযান আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে দুবলার ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় জানান, বনদস্যুদের অপহরণ বাণিজ্য ও সাগরে মাছের স্বল্পতার কারণে জেলেরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন। মাছ আহরণ কমে যাওয়ায় বন বিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সুন্দরবনের শুঁটকি শিল্প ও জেলেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবি ডাকুয়া / বাগেরহাট প্রতিনিধি
