বাংলাদেশের পরিবর্তনের জন্য আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ ভোটে সিল দেওয়া মাস্ট”—এমন মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা জানি সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পরিবর্তন করতে হলে এই গণভোট যেন অতীতের মতো না হয়, সরকারও যেন অতীতের মতো না চলে, কর্মকাণ্ডও যেন আগের মতো না হয়—সেখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে জনগণকে অবশ্যই হ্যাঁ ভোটে সিল দিতে হবে। এটা মাস্ট।
তিনি আরও বলেন, যদি আমরা হ্যাঁ ভোটে সিল না দিই, তাহলে এত রক্তের বিনিময়ে আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, আমরা সেই সুযোগ হারাবো।
সংস্কার না করলে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবো, এটা অটোমেটিক্যালি হবে।
এ সময় স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন,
বর্তমানে সারা বাংলাদেশেই ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী চলাচল কমে গেছে।
আগে বেনাপোল দিয়ে যেখানে প্রতিদিন হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াত করত, সেখানে এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে তিন থেকে চারশ জনে।
এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ভারত নানা কারণে ভিসা দিচ্ছে না, ফলে এখান থেকেও বেশি ভিসা দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে এগুলো ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন শেষে নতুন সরকারের সময় এই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
বেসরকারি পোর্ট অপারেটরের মেয়াদ শেষ হলে এই বন্দর নিয়ে সরকার নতুন করে পরিকল্পনা করতে পারবে।
স্থলবন্দরগুলো নিয়ে বর্তমান সরকার পরিকল্পনা করছে, আর আগামী সরকার এসে তাদের মতো করে কাজ করবে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ বিষয়ে তিনি বলেন,
উপমহাদেশের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক একেক দেশের সঙ্গে একেক রকম।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকলেও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সহজ নয়, কারণ একাধিক দেশের ওপর দিয়ে যেতে হয়।
উপদেষ্টা আরও বলেন,
নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের মোট ২০টি স্থলবন্দর রয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে তিনি বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত হ্যাঁ ভোটের প্রচারণা সভায় যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান,
পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম,
এবং স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরিফুল ইসলাম ইরান/পঞ্চগড় প্রতিনিধি
