প্রতিবার ঘূর্ণিঝড় এলেই সুন্দরবনের আকাশ কালো হয়, নদীর পানি ফুলে ওঠে, আর নীরবে মৃত্যুর মুখে পড়ে বনের নিরীহ বাসিন্দারা— বাঘ, হরিণ, বানর আর অগণিত বন্যপ্রাণী। কিন্তু এবার গল্পটা একটু আলাদা।জলোচ্ছাসে ভেসে না যেতে সুন্দরবনে বাঘের উঁচু আশ্রয়

ঘূর্ণিঝড় এলেইসুন্দরবনের আকাশ কালো হয়ে যায়,নদীর পানি ফুলে ওঠে,আর নীরবে বিপদের মুখে পড়ে
বাঘ, হরিণ আর বনের অসংখ্য প্রাণ।কিন্তু এবার সুন্দরবনে তৈরি হয়েছে
এক নতুন আশার গল্প।

বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যসুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের উদ্যোগেবনের ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছেসাতটি উঁচু টাইগার টিলা।ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের সময়বাঘসহ শিকার প্রাণীরাযাতে নিরাপদ আশ্রয় পায়—
এই লক্ষ্যেই বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায়টাইগার টিলাগুলো তৈরি করা হয়েছে।


বনের ভেতরে বড় আকারের পুকুর খনন করেসেই মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়েছে
১০ থেকে ১২ ফুট উঁচু টিলা।এই পুকুরে জমা থাকবে বৃষ্টির পানি,আর জলোচ্ছাসের সময়বন্যপ্রাণীরা পুকুরের উঁচু পাড়ে উঠেনিতে পারবে নিরাপদ আশ্রয়।ঝড়ের রাতেএই টিলাগুলোই হয়ে উঠবেপ্রাণ বাঁচানোর শেষ ভরসা।


২০২৩–২৪ অর্থবছরেশরণখোলা রেঞ্জের কটকা, কচিখালী, কোকিলমনিএবং চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া ও চরাপুটিয়ায়প্রথম ধাপে নির্মাণ হয় ৫টি টাইগার টিলা।এরপর ২০২৪–২৫ অর্থবছরেশরণখোলার সুপতিও চাঁদপাইয়ের মরাপশুর এলাকায়আরও ২টি টিলা নির্মাণ শেষ হয়।প্রতিটি টিলায় গড়ে ব্যয় হয়েছেপ্রায় ২৪ লাখ টাকা।


কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাফরেস্টার মোহাম্মদ মতিউর রহমান বলেন—

“টাইগার টিলাগুলো এমনভাবে উঁচু করে তৈরি করা হয়েছে,
যাতে দুর্যোগের সময় বাঘ ও হরিণ অনায়াসে
এখানে উঠে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে।”

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন—

“ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে লবণাক্ত পানিতেসুন্দরবনের বড় এলাকা তলিয়ে যায়।এতে বন্যপ্রাণী মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এই ঝুঁকি কমাতেই টাইগার টিলা নির্মাণ করা হয়েছে।”তিনি আরও জানান,
সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে


প্রকৃতি কথা বলে না,কিন্তু প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানুষের দায়িত্ব। টাইগার টিলা হয়তো নীরব—কিন্তু ঝড়ের রাতে এই নীরব আশ্রয়গুলোইসুন্দরবনের প্রাণ বাঁচাবে।

রবি ডাকুয়া/বাগেরহাট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *