উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২২ কার্টুন মাংস এসেছে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে,
প্রতিটি কার্টনে ছিল ২০ থেকে ২৫ কেজি করে মাংস।
সরকারি নির্দেশনা ছিল— এই মাংস ইউনিয়ন, এতিমখানা ও মাদ্রাসাগুলোতে বিতরণ করা হবে।
🎙️
কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন!
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়— ইউনিয়নে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৮ কার্টুন,
এতিমখানা ও মাদ্রাসায় গেছে মাত্র ৩ কার্টুন।
আরও ১ কার্টুনের কোনো হদিস নেই।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্যের মধ্যে অন্তত ২ কার্টুন মাংস ভাগাভাগি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাকি প্রায় ২৫০ কেজি মাংসের কোনো সরকারি রেকর্ড পাওয়া যায়নি!
📹
বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল মাবুদ (বিজয় টিভি) এবং কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন (বাংলাদেশ বেতার, রাঙামাটি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন—
প্রেসক্লাবের জন্য একটি কার্টুন মাংস দেওয়া হয়েছে,
যা উপজেলা পরিষদ থেকে সাধারণ সম্পাদক গ্রহণ করেন।
তবে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় কিছু সূত্র দাবি করছে, প্রেসক্লাবের নামে দুটি কার্টুন বরাদ্দ ছিল।
📢
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া।
তারা বলছেন—
“এতিম ও গরীবদের প্রাপ্য মাংস যদি প্রেসক্লাবের নামে ভাগ হয়,
তাহলে সেটি অনৈতিক, লজ্জাজনক এবং সাংবাদিকতার মূল চেতনাবিরোধী।”
💬
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান বলেন—
“বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
⚖️
সচেতন মহল মনে করছে—
এই অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যারা এতিমদের প্রাপ্য অনুদান আত্মসাৎ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
🎯
স্থানীয়দের দাবি—
“যারা অসহায় ও এতিমদের প্রাপ্য নিয়ে লুটপাট করছে,
তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে,
না হলে ভবিষ্যতে মানবিক সাহায্য বিতরণেও মানুষ আস্থা হারাবে।”
🎬
শেষে বলা যায় —
একটি মানবিক সহায়তা যদি বিতরণের আগেই ভাগাভাগির রাজনীতিতে ঢেকে যায়,
তবে সমাজে ন্যায়ের বার্তা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে?
নোমাইনুল ইসলাম/রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
